GFive-Mobile-phoneঅতি সম্প্রতি বাংলাদেশে যাত্রা শুরম্ন করেছে বিশ্বখ্যাত চাইনিজ ব্রান্ডের মোবাইল ফোন জি-ফাইভ। বর্তমানে সারা বিশ্বেই চীনা পন্যের ছড়াছড়ি লৰ্য করা যায়। বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে চাইনিজ ব্রান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেটের পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক নিম্নমানের পন্য এবং অপরিচিত ব্রান্ডগুলোকে অনুকরন করে কিংবা বিকৃত করে মাল্টিফাংশন হ্যান্ডসেট স্বল্প মূল্যে বাজারে ছাড়ছে। মানুষ এক ধরনের ভাগ্যের উপর নির্ভর করেই এই ধরনের স্বল্প মূল্যের হ্যান্ডসেট গুলো ক্রয় করতে হয়। এর মূল কারন এসব হ্যান্ডসেটের সার্ভিস এবং ওয়ারেন্টিগত জটিলতা। তাই অনেকেই চাইনিজ পন্যের কথা শুনলেই ভ্রম্ন কুঁচকাতে শুরম্ন করেন। অনেকের কাছেই চাইনিজ পন্য মানেই নিম্নমানের পন্য হিসেবে স্বীকৃত। সত্যিকার অর্থে, চাইনিজ পন্য মানেই যে নিম্নমানের পন্য নয় তার প্রমান হচ্ছে বিশ্বজুড়ে চাইনিজ পন্যের বিশাল বাজার। প্রতিষ্ঠিত চাইনিজ ব্রান্ড জিফাইভ এর মোবাইল হ্যান্ডসেট বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে ইজি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ লিমিটেড। বাংলাদেশে জিফাইভ এর আগমন এবং বিশেষত্ব নিয়ে কম্পিউটার বার্তার সাথে কথা বলেছেন ইজি ওয়ার্ল্ড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ জাহিদুল হক এবং সিইও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
কমবার্তা: জিফাইভ সম্পর্কে কিছু বলুন।
তারিকুল ইসলাম: এটি একটি আনত্দর্জাতিক ব্রান্ড। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল এবং আমাদের পাশ্ববতর্ী দেশ ভারত ও পাকিসত্দানে এই মোবাইলের সফল ইতিহাস রয়েছে। ভলিউমের হিসেবে ইতোমধ্যেই ভারতের মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের ব্রান্ডগুলোর মধ্যে দ্বিতিয় স্থান অধিকার করতে সমর্থ হয়েছে জিফাইভ। ভারত এবং পাকিসত্দানের মত একই ধরনের আর্থসামাজিক অবস্থার দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও জিফাইভ ভালো অবস্থা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
কমবার্তাঃ আপনারা মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের জন্য কি ধরনের সার্ভিস সুবিধা নিশ্চিত করছেন?
জাহিদুল হকঃ জিফাইভ ব্র্যান্ডের প্রতিটি মোবাইল ফোনে ১ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাটারির ৰেত্রে ৬মাস ওয়ারেন্টি দেয়া হচ্ছে। তাছাড়াও বিশেষ পরিস্থিতেতে বিশেষ প্যাকেজ অফারে ১৮ মাসের ওয়ারেন্টি অফার করা হবে। আমাদের রয়েছে ৫ টি সার্ভিস সেন্টার এবং ১১টি কালেকশন সেন্টার। তাছাড়াও সারাদেশে ৬৪ জেলায় ডিলার রয়েছে।
কমবার্তাঃ আপনারা কাদেরকে টার্গেট মার্কেট হিসেবে দেখছেন?
তারিকুল ইসলামঃ আমাদের মোবাইল হ্যান্ডসেট গুলোর দাম গড়ে ৩৩০০ টাকা থেকে ৪৭০০ টাকার মধ্যে হওয়ায় আমাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ। শুধুমাত্র নামের কারনে বর্তমান বাজারের জনপ্রিয় ব্রান্ডগুলো একই মানের মোবাইল হ্যান্ডসেট দ্বিগুন দামে বিক্রি করতে পারছে। আমরা চাচ্ছি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে গুনগত মানের হ্যান্ডসেট হাতে তুলে দিতে।
কমবার্তাঃ বাজারে বিদ্যমান চাইনিজ মোবাইলগুলোর সাথে আপনাদের পার্থক্য কি ?
জাহিদুল হকঃ দেখুন বর্তমানে বাজারে যেসব চাইনিজ হ্যান্ডসেট পাওয়া যাচ্ছে তার অধিকাংশই ইউজারদেরকে গুনগত মান নিশ্চিত করতে পারছে না। তাছাড়া এগুলো কোন ব্রান্ড নয়। বর্তমানে মোবাইল ফোনে মানুষের চাহিদা বেড়ে চলেছে। মানুষ এখন মোবাইল ফোনে শুধুমাত্র কথা বলায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। এফএম রেডিও, এমপিথ্রি, ক্যামেরা এবং আরও সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পেতে চায়। আমাদের ব্র্যান্ডের যেসব মোবাইল ফোনের মধ্যে যেগুলোর মূল্য ৪,৫০০ টাকার বেশি সেগুলোতে থ্রিজি সাপোর্ট করে।
কমবার্তাঃ বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের উৎপাদন হয় না কেন?
তারিকুল ইসলামঃ আমাদের দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা ভাবে আমদানি করতে গেলে প্রায় ৬০ শতাংশ কর দিতে হয়। এর ফলে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন লাভজনক হয় না। এৰেত্রে সরকার যদি এগিয়ে এসে কিছু প্রনোদনা প্যাকেজ অফার করে এবং একটি পৃথক এলাকায় কমিউনিকেশন ম্যানুফ্যাকচারিং ভিলেজ তৈরী করে তাহলে এই শিল্প থেকে অনেক লাভবান হওয়া যেতে পারে। এৰেত্রে ইপিজেড এর দৃষ্টানত্দ অনুসরন করা যেতে পারে। টেলিকম এর সাথে জড়িত পন্যসমূহের আমাদানি সহজ করতে হবে এবং দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে।
কমবার্তাঃ আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের বাজারে জিফাইভকে কোন অবস্থায় দেখতে চান?
জাহিদুল হকঃ আগামী পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের বাজারে এক নম্বর মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্রান্ড হিসেবে দেখতে চাই এবং সেটা অবশ্যই সম্ভব।

  • Share/Bookmark

5 Comments for this entry

Leave a Reply

Copyright © 2010 Computer Barta All rights reserved | Powerd by Computer Barta Web Team | Designed & Develop by Little Bytes Team