কেরামত আলী মোলস্না, ৫২ বছর বয়সে এই প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করলেন। শুধু কী তাই, তার নিজের একটা ই-মেইল ঠিকানাও হয়েছে। এতদিন শুনে আসছেন, ই-মেইল ব্যবহার করে মুহুর্তে মধ্য যে যেকোন জায়গায় যোগাযোগ সম্ভব। এখন নিজেই তা প্রমাণ করলেন। সম্প্রতি, নতুন এক উপলদ্ধি তার। তাহলো কম্পিউটার, মোবাইলসহ অন্যান্য যোগাযোগপ্রযক্তি ব্যবহার করে যেকোনো উপায়েই হোক, জনসেবা নিশ্চিত কতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার এই চেয়ারম্যান বললেন, ‘এখন অনেক দায়িত্ব বেড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের কাছে থাকতে চাই, জনগণও যেনো আমাকে কাছে পান, সে ব্যবস্থা করবো। নির্বাচনের সময় কেউ যেনো বলতে না পারেন ৫ বছর কোথায় ছিলেন?’
মাত্র ৩০ বছর বয়সেই রাজী আল ফকরম্নল জনেতা তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ও আধুনিক শিৰায় শিৰিত কুমিলস্ন জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এই চেয়ারম্যান সরকারি সেবা জনগণের দোযোড়ায় পেঁৗছানোর ৰেত্রে সারাদেশে দৃষ্টানত্দ স্থাপন করতে চান। এ বিষয়ে ছোট ছোট অগোছালো পরিকল্পনা থাকলেও ্খন তা অনেক পরিকল্পিত এবং সুশৃঙ্খল। এত সমস্যা নিয়েও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘অনেকে বিদু্যৎ সমস্যা ও ইন্টারনেটের ধীরগতির কথা বলেন, কিন্তু এটিকে কোনো সমস্যাই আমি মনে করি না। মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহার করে সেবা নিশ্চিত করতে পারি। আসলে আমাদের প্রয়োজন সদিচ্ছা ও গতিশীল নেতৃত্বের। তবেই পরিবর্তন আসবে।’
রূপানত্দরের এই গল্পের শুরম্ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং ইউএনডিপির লোকাল গভর্নেস ক্লাস্টার আয়োজিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশবিয়ক প্রশিৰণ কর্মশালার পর থেকে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে ১২ এপ্রিল এই করর্মশালার উদ্বোধন করেন। কর্মশালার অংশ নেয়া ৪৮১ জন উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রত্যেককে ইন্টারনেট সংযোগসহ ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছেন না। এর সাথে নিয়ে যাচ্ছেন কিছু উপলদ্ধি, কিছু দায়িত্ববোধ আর জনসেবার নতুন ধারণা। এখান থেকেই শুরম্ন হচ্ছে ই-নেতৃত্বের বিকাশ।
ই-নেতৃত্ব:
খুব সহজভাবে বলা যায়, নেতৃত্ব হলো কোনো ব্যাক্তির কিছু গুণাবলী, যেমন তার ব্যক্তিত্ব-দৰতা এবং বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি, যা দিয়ে তিনি তার দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে কোনো উদ্দেশ্যসম্পন্ন করেন। দল বা গোষ্ঠার সদস্যরা নেতার নির্দশ মান্য করেন, আদর্শ নেতৃত্ব সকলের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক করে, আর ই-নেতৃত্ব হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি নেতৃত্ব, নেতা যেমন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নেতৃত্ব সকলের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক নিশ্চিত করে, আর ই-নেতৃত্ব হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি নেতৃত্ব, নেতা যেমন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নেতৃত্ব দেবেন, তেমনি তার অনুসারীদেরও তথ্যপর্যুক্তি ব্যবহার উদ্বুদ্ধ করবেন। বাংলাদেশে ই-নেতৃত্বের কথা উঠলেই দৃশ্যপটে চলে আসে সদ্য প্রশিৰিত উপজেলা চেয়ারম্যানরা। এরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দৰতার সাথে দ্রম্নত সময়ে কম খরচে সহজে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে এখন প্রশিৰিত।
প্রশিৰণ ও ই-নেতৃতর্্ব বিকাশ:
শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে পারে টেকসই উন্নয়ন। সরকারের ‘রূপকল্প-২০২১’ বাসত্দবায়নেও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাত ধরেই ডিজিটাল বাংরাদেশ বাসত্দবায়নের কাজে তৃণমূলের মাণুষের অংশ নেয়া নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বাসত্দবতা মেনে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ই-নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক প্রশিৰণের ব্যবস্থা করা হয়। ই-নেতৃত্বই পারে বহুদিনের কামিৰত শক্তিশালী স্থানীয় সরাকর র্ববস্থা গড়ে তুলতে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে। সর্বোপরি একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতি্ষ্ঠা করত।
জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা নিশ্চিত করা এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে স্বচ্ছ ধানলা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ প্রশিৰণের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া ডিজিটা বাংলাদেশ গড়ার চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং চেয়ারম্যানদের ভূমিকা বিষয়েও ধারণা দেয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলার চঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কাজী ওয়াহিদ তার অনুভূতির কথা জানালেন এভাবে: ‘এই প্রশিৰণ আমাদের জন্য আইস ব্রেকিং-এর মতো। সরকারের আনত্দরিকতা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রের সাথে প্রানত্দের ভাবনার যে ফারাক রয়েছে তা আমরা বুঝাতে সমর্থ হয়েছে এই প্রশিৰণের মাধ্যমে। শক্তিশালী স্থানীয় সরকারই যথাসময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পারে। উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে আমরা প্রসত্দত’ মীরেরসরাই উপজেলা চেয়ারন্যান তার উপলদ্ধির কথা জানিযে বলেন, ‘জনসেবা সম্পর্কে আমরা ধারণা এখনবদলে গেছে। সেবা মানুষের কাছে যাবে, মানুষ সেবার কাছে যাবে না। শুধু কম্পিউটারই নয়, এর বাইরে অন্য প্রযুক্তিসেবা দেয়া সম্ভব’।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে জন-আকাঙ্খ তৈরি করা এবং জনগণকে এসব কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা একজন নেতার জন্য চ্যলেঞ্জ। এজন্য বিভিন্নজন বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজী আল ফকরম্নল অন্যতম। তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমি আমার এলাকায় রোড শো করবো। যেসব সরকারি সেবা দেয়া হণ্ডে সেগুলো নিয়ে সিডি/ডিভিডি বানিয়ে চায়ের দোকানে, বাস স্ট্যান্ডে দেখাবো, যাতে করে মানুষের মনে সেবা নেয়ার আকঙ্খা তৈরি হয়, মানুষের অংশ নেয়া বাড়ে।’
ইউএনডিপি এই প্রশিৰণ কর্মশথালার অন্যতম আয়োজক। এইএনডিপির এসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ এই কর্মশালার ফলাফল সম্পর্কে জানালেন, ‘ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানদের জাকে গতি এসেছে। আশা করি, চেয়ারম্যনরা বাজেট প্রণয়নে নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা রাখতে পারবেন, ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সমর্থ হবেন। এছাড়াও জনগণের আগ্রহ তৈরি, ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম তদারকি, স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিযে নতুন নতুন উদ্যোগ বিষয়েও তার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। মোটা দাগে বলা যায়, ই-নেতৃত্ব বিকশিত হবে’।
জনগণ ও সরকারের মাঝে সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন উপজেলা চেয়ারম্যানরা। উপজেলা চেয়ারম্যানদের দৰ ও গতিশীল নেতৃত্বই পারে জনগণ ও সরকারের মাঝে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে। এসব চেয়ারম্যানের ই-নেতৃত্বের কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হয়ে উঠবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। তাইতো ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সব উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে লৰ্য করা যাচ্ছে সুস্থ প্রতিযোগিতা। সবাই স্বপ্ন দেখছেন রাজী আল ফকরম্নলের মতো ডিজিটাল চেয়ারম্যান হবার।







