ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লৰ্য নানামূখি কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও ড়দ্রম্নত এবং সঠিকভাবে বাসৱবায়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের কলা-কৌশল জাতীর সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহবান জানান। এজন্য প্রয়োজনে এ সংক্রানৱ উপদেষ্টা বা প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সংস্কারের আহবান জানানো হয়। সমপ্রতি বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) এর আয়োজনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের এক বছরের কর্মকান্ড’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিআইজেএফ সভাপতি মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও সেন্টার ফর ই-পার্লামেন্ট রিসার্চের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী।
প্রধান অতিথি এ সময় তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ৰেত্রে সরকার অনেক কাজই ইতিমধ্যে শুরম্ন করেছে। তবে বিৰিপ্তভাবে কাজগুলো হওয়ায় জনগন সবকিছু বুঝে উঠতে পারছে না। সরকারের উচিত একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং পরিকল্পনা অনুসারে সরকার কি কি কাজ করছে তা সমন্বিতভাবে দেশবাসীর কাছে হাজির করা। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করার জন্য প্রয়োজন হলে একজন সমন্বয়কও নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেকের মতো আমি নিজেও মনে করি বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দুটি আলাদা মন্ত্রণালয় না থেকে একটি মন্ত্রণালয় হলে ভালো হয়’। তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) যুগোপযুগি করে ঢেলে সাজানোর উপর জোর দেন। ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার যারা ই-মেইলের মাধ্যমে আমার কাছে আবেদন করে, তাদের আবেদন আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করি। তথপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহের কারনে আমি নিজে একটি ওয়েবসাইট খুলেছি, যেখানে আমি তথ্য হালনাগাদ করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লৰ্যে অনেক কাজ শুরম্ন হলেও সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ছিলো না। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা নোটিশ দিয়ে সংসদে আলোচনা আলোচনা করার চেষ্টা করবো।’
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোসৱাফা জব্বার, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি হাবিবুলস্নাাহ এন করিম, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আখতারুজ্জামান মঞ্জু, গ্রামীণফোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এএইচএম সুলতানুর রেজা, নকিয়া ইমার্জিং এশিয়ার কমিউনিকেশন ম্যানেজার মৌটুসি কবির, বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদ উদ্দিন আকবর, বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান, বিসিএস মহাসচিব মজিবুর রহমান স্বপন, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরম্নর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি তারেক সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট তারিক বরকতুলস্নাহ, ফাইবার এট হোম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক সিদ্দীকি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের কমিউনিকেশন এন্ড মিড়িয়া ম্যানেজার এস এম আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আমিনুল হকসহ অনেকে। গোলটেবিলের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডিজিটাল নলেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান টি আই এম নুরুল কবির।
আলোচনায় উঠে আসে একটি ডিজিটাল সমাজের জন্য প্রয়োজন আইনীকাঠামো ও নীতিমালা। বর্তমান সরকার গত ৯ জুলাই ২০০৯ বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় সংসদে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ কার্যকর করেছে। এতে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল লেনদেনের আইনী কাঠামো গড়ে উঠেছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেটে ক্রেডিটকার্ড লেনদেনের দ্বার উম্মোচন করতে পেরেছে। ইতিমধ্যে সরকারের সকল সৱরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ই-মেইলসহ আধুনিক ব্যবস্থাদি ব্যবহারে সকল কর্মকর্তাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকারের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য সকলকে ইন্টারনেট সংযোগসহ ল্যাপটপ কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের পর ঢাকা কাস্টম হাউজে অনলাইন পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীতে কোম্পানী নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইন করা হয়েছে। ফলে ব্যবসা চালুর প্রথম ধাপের কাজটি হয়রানি ছাড়া করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস চালুর কার্যক্রম মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে।
আলোচকরা বলেন, ইতিমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ মিশনের ১ বছর সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কার্যকর তেমন কোন সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এ সময় বলা হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাসৱবায়নে সংশিস্নষ্ট সরকারি ও বেসরকারি মহলের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি অত্যনৱ জরম্নরী। গত অর্থ বছরের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি থাকার থোক বরাদ্দ আজও অব্যবহূত রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সরকারের তৎপর উদ্যোগের অভাব আছে বলে আলোচকরা উলেস্নখ করেন। সবমিলিয়ে ৩ ঘণ্টাব্যাপী প্রাণবনৱ আলোচনায় শতাধিক আলোচক অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া দেশব্যাপী মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ আরো কমানো উচিত বলে উলেস্নখ করা হয়। আলোচনায় উলেস্নখ্য করা হয় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়ার সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বাসৱবায়নের মিশনটি কঠিন হবে। আলোচনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে পিপিপি (প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ) বিষয়টি বিশেষ গুরম্নত্ব পায়। কেননা সরকারি সহায়তা ছাড়া কোনোভাবেই আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয় না। বক্তারা গোলটেবিল বৈঠকের আলোচিত বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের বর্তমান অধিবেশনে আলোচনা করার জন্য উপস্থিত প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির কাছে দাবি জানান। আয়োজকদের পৰ থেকে জাননো হয় অচিরেই সেমিনারে আলোচিত বিষয় ও সুনির্দিষ্ট প্রসৱাবগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
- বার্তা প্রতিবেদক

  • Share/Bookmark

Leave a Reply

Copyright © 2010 Computer Barta All rights reserved | Powerd by Computer Barta Web Team | Designed & Develop by Little Bytes Team