অতি সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বহু কাঙ্খিত বাজেট (২০১০-২০১১) ঘোষনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। চাল ডাল আর তেল নুনের দাম কমল নাকি বাড়ল তা জানার জন্য তীর্থের কাকের মত তাকিযে থাকে দেশের কোটি কোটি সাধারন মানুষ। অন্যদিকে নির্দিষ্ট সেক্টরে অর্থমন্ত্রী কি পরিমান করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন অথবা কি পরিমান কর মত্তকূফ করছেন তা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেৰা করেন সংশিস্নষ্ট সেক্টরের ব্যবসায়ীগন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য গুরম্নত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোর পাশাপাশি গুরম্নত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষনা দেয়ার পর বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। এর প্রতিফলন ঘটেছিল গত ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বাজেটে। গতবারের বাজেটের ধারাবাহিকতায় এই বছর ত্যপ্রযুক্তি খাতে প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল বহুগুনে। কিন্তু এবারের বাজেটে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন পুরোপুরি দেখা না যাওয়ায় একজোট হয়ে বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গুরম্নত্বপূর্ণ তিন প্রযুক্তি সংগঠন। এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তথ্যপ্রযুক্তি ও এর সাথে সংশিস্নষ্ট যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন এখানে তা তুলে ধরা হল:-
ডাক ও টেলিযোগাযোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ
টেলিফোন ও ইন্টারনেটের আওতা সম্প্রসারণঃ
আমি আমার ষন্মাষক বাসত্দবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রকাশ করে জাতিকে যে নতুন স্বপ্ন পূরণে ব্রতী হযেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার মতে আমরা গত বাজেটে জনগণের ইন্টারনেট ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার লৰ্যে টেলিফোন ও ইন্টারনেটের আওতা বাড়ানো এবং সেবার মূল্য কমানোর প্রতিশ্রম্নতি প্রদান করেছিলাম আমরা দাবি করতে পারি যে, আমাদের প্রতিশ্রম্নতি বাসত্দবায়নে আমরা বহুলাংশে সফল।
ডিজিটাল অবকাঠামোঃ
দেশের পার্বত্য জেলাগুলোসহ সকল উপজেলাকে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসাসহ ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা আমরা করেছি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল উপজেলাকে ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনার কাজও অনেকখানি এগিয়েছে। যেসব উপজেলায় ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ আছে সেখানে ডায়ালআপ ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়েছে। দেশব্যাপী ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিশ্রম্নতি অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপনের লৰ্যে বাংলাদেশের জন্য ঘবীঃ এবহবৎধঃরড়হ ঘবঃড়িৎশ (ঘএঘ) ভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০টি উপজেলাকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় এনে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রম্নতগতিসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রদানের জন্য ২টি ডরগঅঢ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। ৪ হাজার ৪০৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনকে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের আওতার মধ্যে আনা হবে। অল্পসময়ের মধ্যে সারাদেশে এক কোটি ল্যান্ডফোন সংযোগ প্রদান ও দেশের ৮ হাজার গ্রামীণ ডাকঘরকে পর্যায়ক্রমে কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টারে রম্নপানত্দরের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলঃ
সরকারের আনত্দরিক প্রচেষ্টার ফলে দেশে টেলিডেনসিটি দ্রম্নত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এ টেলিডেনসিটি প্রতি ১০০ তে ৩৮ জনে উন্নীত হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি ১০০ তে ৬জনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া, গত বাজেটে আমাদের আরেকটি অঙ্গীকার ছিল দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করা। নতুন এ সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনের জন্য লাইসেন্সিং নীতিমালা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর ওপর জনগণের মতামত আহবান করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডিজিটাল বাংলাদেশ
আমি গত বাজেট বক্তৃতায় ২০১৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক সত্দরে কম্পিউটার ও কারিগরি শিৰা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলাম। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের ৭টি বিভাগে উপজেলা পর্যায়ে মোট ১ হাজার ২০০ শিৰা প্রতিষ্ঠানে এবং ৬টি মেট্রোপলিটন শহরের ২০০টি শিৰা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ১ হাজার ২০০টি শিৰা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালাঃ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে ইতোমধ্যে ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা-২০০৯’ অনুমোদিত হযেছে। এ নীতিমালায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে মোট ৩০৬টি কর্মপরিকল্পনা (অপঃরড়হ চষধহ) প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনাগুলো বাসত্দবায়িত হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ৰেত্রে যে উন্নতি সাধিত হবে তা ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে প্রশসত্দ করবে।
তথ্য অবকাঠামোঃ
দেশে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও আমরা গুরম্নত্ব প্রদান করেছি। সে লৰ্যে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালার আলোকে ‘হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠা’ ও ঢাকার মহাখালীতে ‘আইসিটি ভিলেজ’ স্থাপনের পদৰেপ আমরা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি। অঞ্চলভিত্তিক প্রযুক্তি-বৈষম্য কমিয়ে আনতে দেশের ১৩৩টি উপজেলায় ‘কমিউনিটি ই-সেন্টার’ আমরা স্থাপন করেছি। এসব সেন্টারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির সেবায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার লৰ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঈড়হহবপঃরারঃু প্রতিষ্ঠাকল্পে ঝড়ঁঃয অংরধহ ঝঁন-ৎবমরড়হধষ ঊপড়হড়সরপ ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ (ঝঅঝঊঈ) ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঐরমযধিু প্রকল্প আমরা গ্রহণ করেছি।
বিদু্যৎ ঘাটতিঃ
বিদু্যৎ ঘাটতির কারণে জনগণের ভোগানত্দি বেড়েছে, শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রসত্দ হয়েছে, ৰতিগ্রসত্দ হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ২০০৯ সালের জানুয়ারি বিদু্যৎ উৎপাদনে আমাদের সামর্থ্য (ডিরেটেড ৰমতা) ছিল ৫০০০ মেগাওয়াট, কিনত্দ আমাদের প্রকৃত উৎপাদন ছিল মাসিক গড় অনুযায়ী ৩৫২৫ মেগাওয়াট। আমাদের সামর্থ্য এবং প্রকৃত উৎপাদনের মধ্যে এই বিরাট তথাতের কারণ হল-প্রথমত, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদু্যৎ কেন্দ্র অত্যনত্দ পুরনো এবং সেগুলোকে অবসর দেয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের গ্যাস সরবরাহ সবসময় যথোপযযুক্ত না হওয়ায় অনেক বিদু্যঃ কেন্দ্র অনেক সময় অচল থাকে। তৃতীয়ত, আমাদের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা দারম্নণভাবে ক্রটিপূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বঃ
অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ঘাটতি পুরণে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (চঁনষরপ চৎরাধঃব চধৎঃহবৎংযরঢ় – চচচ) আওতায় ব্যক্তিখাতকে সমপৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে পিপিপি খাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিলাম। তবে, আমি বলব সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রকল্পে আমাদের পরিকল্পনামাফিক কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। গত অর্থবছরে পিপিপি সংক্রানত্দ একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের অভাবে এখাতে তেমন কোন বিনিয়োগ ঘটেনি।
বাজেট প্রতিক্রিয়া
বাজেট ঘোষনার দুদিন পর এবার ভিন্ন ধারায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রধান প্রযুক্তি সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (্আইএসপিএবি) যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু আনত্দর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সংক্রানত্দ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত বিগত ১০.০৬.২০১০ তারিখ জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের জন্য নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। সরকারের বাজেটে আইসিটি খাতের উন্নয়নে কি ধরনের পদৰেপ গ্রহণ করলে তা এই শিল্পের ব্যবসায়ী ও সেবা গ্রহণকারীদের উপকারে আসবে তা সম্পর্কে একটি প্রতিচিত্র তুলে ধরার মানসে মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের শুরম্নতে তিনটি সমিতির পৰ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেন বিসিএস সভাপতি জনাব মোসত্দাফা জব্বার। তিনি তার বক্তব্যের শুরম্নতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পীকারকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেট উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদ প্রদান করেন। তিনি এবারের বাজেটকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকারকে অভিনন্দন জানান। তবে তিনি বলেন যে, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রম্নতি দেশবাসীকে দিয়েছে সেই তুলনায় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেনি।
এছাড়াও তিনি বিসিএস, বেসিস এবং আইএসপিএবি এর পৰ থেকে নিম্নলিখিত বাজেট প্রসত্দাবনা পেশ করেন:
১. বাজেটের দুটি অংশ থাকে। এর একটি হলো শুল্ক, ভ্যাট ও কর সংক্রানত্দ এবং অন্যটি হলো উন্নয়ন সংক্রানত্দ। প্রথমত আমরা শুল্ক, ভ্যাট ও কর সংক্রানত্দ বিষয়টির প্রতি গুরম্নত্ব দিতে চাই। আমরা আশা করেছিলাম যে, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক ও এই সংক্রানত্দ পণ্যকে চাল ডাল তেল নূনের মতোই শূণ্য শুল্কের কাঠামোতে আনা হবে। কিন্তু আমরা লৰ্য করেছি যে, সরকার স্থিতাবস্থা বজায় রেখেছেন। এর ফলে আমরা আগের জায়গাতেই রয়ে গেছি। তবে প্রতি বছরই বাজেটে কিছু নতুন নতুন উপায়ে শুল্ক, কর ও ভ্যাট সংক্রানত্দ কর্মকান্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়ে থাকে। ফলে এর কিছু প্রভাব এই খাতে পড়তে পারে। বাজেট কার্যকর হবার পর থেকে আমরা এর বিসত্দারিত প্রভাব বিষয়ে অবগত হতে পারবো।
২. এবারের বাজেটে সরকার আইসিটি খাতের উন্নয়নে আইসিটি নীতিমালা ২০০৯-এর ৩০৬টি কর্মপরিকল্পনা বাসত্দবায়নের কথা উলেস্নখ করেছে যা বাসত্দবায়িত হলে আমাদের দেশের আইসিটি খাত আরও কয়েকধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা এই কথাটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আইসিটি নীতিমালা বাসত্দবায়নের ৰেত্রে সরকারের বর্তমান কাজের গতি অত্যনত্দ ধীর। এই গতিতে কাজ করলে আমরা যথাসময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবোনা।
৩. বিগত সময়কালের মতো এবারও সরকারের কাছে এই খাতের উন্নয়নে বাজেট ঘোষণার পূর্বে আইসিটি সংগঠনসমূহের পৰ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রসত্দাবনা প্রদানের কথা বলা হয়েছিলো। আমরা সেইসব প্রসত্দাবনা পেশ করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, আমাদের প্রসত্দাবনাগুলো আদৌ বিবেচনা করা হয় নাই।
৪. বাজেটে হাইটেক পার্ক, ল্যান্ড ডিজিটাইজেশন এবং দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ইত্যাদি স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব খাতের উন্নয়নে এবারের বাজেটে তেমন কোন বা সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের উলেস্নখ নাই।
৫. আইসিটি পলিসি ২০০৯ অনুযায়ী আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রির উন্নয়নে এডিপির ৫% এবং রাজস্ব’র ২% বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও তা এবারের বাজেটে উলেস্নখ করা হয় নাই। (এ্যাকশন পস্ন্যান নং- ১০০)
৬. আইসিটি পলিসি ২০০৯ অনুযায়ী আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রির উন্নয়নে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। কিনুত্দ এবারের বাজেটে তার কোন উলেস্নখ নাই।
৭. সমমূলধন তহবিলে এবার আরও ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা সরকারকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এই তহবিলে যে পরিমান টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তার কিয়দংশও আইসিটি খাতের উন্নয়নে ব্যয়িত হয় নাই এবং এই টাকা ব্যয়ের নীতিমালা ও পদ্ধতি মোটেই এই খাতের উপযোগী বা কার্যকর নয়। ফলে এই তহবিল থেকে আমরা সামান্যই সহায়তা পেয়ে থাকি।
৮. সরকার এবারের বাজেটে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফান্ডে (পিপিপি) ৩০০০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রেখেছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এই খাতে কেবলমাত্র অবকাঠামোকে না রেখে আইসিটি ও এই সংশিস্নষ্ট সেবা খাতকে অনত্দভর্ুক্ত করতে হবে।
৯. দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বর্তমানে ইন্টারনেট একটি অন্যতম গুরম্নত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে সকলের কাছে পরিগণিত বলে আমরা মনে করি। অতএব ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য ১৮,০০০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে তা ৭,০০০ হাজার টাকার নিচে কমিয়ে আনা উচিত বলে আমরা মনে করছি। একই সাথে ই-কমার্স ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত।
১০. গত বছরে দেশের ১৪০০ মাধ্যমিক শিৰা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের কথা বলা হয়েছে যা আসলে আমাদের দেশের শিৰা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে আমরা মনে করি। সরকারের পৰ থেকে এই খাতের জন্য আরও সুবিসত্দৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
১১. ২০১৪ সালের ভেতর ই গর্ভনেন্স এর পুরোপুরি বাসত্দবায়ন করতে হলে তার জন্য সুনির্দিষ্ট একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী সরকারকে এগিয়ে যেতে হবে বলে আমরা মনে করি। সরকারের সকল মন্ত্রণালয় সমূহকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। এবারের বাজেটে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বাজেট ঘোষণা হলে তার প্রতিফলন সকলের কাছে অত্যনত্দ গ্রহণযোগ্য হতো বলে মনে হয়।
বিসিএস সভাপতির বক্তব্যের পর বেসিস এর সভাপতি জনাব মাহবুব জামান এবং আইএসপিএবি-এর সভাপতি জনাব আক্তারম্নজ্জামান মঞ্জু বাজেট বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এসময়ে তারা উপরোক্ত প্রসত্দাবনা ছাড়াও সফটওয়্যার ও সেবাখাতের কর অবকাশ ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ সাল পর্যনত্দ বাড়ানোর প্রসত্দাব করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বেসিস সভাপতি বলেন যে, দেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। এজন্য সবার আগে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। আইসিটি ইনকিউবেটরে যাতে করে দৰ প্রাযুক্তিক জ্ঞানসম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরী করা যায় সেজন্য আরো বেশী করে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরী করে দিতে হবে। আইএসপিএবি এর সভাপতি জনাব আক্তারম্নজ্জামান মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন যে, দেশের সকল ৰেত্রে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান পেঁৗছে দিতে হলে সরকারকে এই খাতের উপর থেকে সকল ভ্যাট তুলে নিতে হবে।
সদ্যঘোষিত বাজেট আপাতদৃষ্টিতে আশানুরূপ নয়। তবে এই বাজেট থেকে চেষ্টা করলে কিছু বের করে আনা সম্ভব। হাইটেক পার্ক এর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের টেলিকম কমিটিকে অতিরিক্ত ৰমতা দেয়া হয়েছে। দেশের ১২০০ স্কুলে কম্পিউটার দেয়ার কথা বলেছে সরকার। সেসব স্কুলে শুধুমাত্র কম্পিউটার দিলেই চলবে না। কম্পিউটারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনটেন্ট এবং ইন্টারনেট অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। আইসিটি খাতের উন্নয়নে মহাখালিতে যে জমিটা বরাদ্দ আছে সেখানে অতি দ্রম্নত কাজ শুরম্ন করতে হবে। তাছাড়াও ঢাকা শহরের কয়েকটি স্থানে সফটওয়্যার পার্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবারের বাজেটে সরকার ই-কমার্সের উপর ৫% ভ্যাট আরোপ করেছে যা সত্যিই হাস্যকর। ইউরোপের অনেক দেশেই ইকমার্সের ৰেত্রে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। সেৰেত্রে বাংলাদেশে দেখ যাচ্ছে সম্পূর্ন ভিন্ন চিত্র।
সরকার আমাদেরকে বলছে ৩০০ টাকায় মানুষের ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে। আমরা অনেক ৰেত্রে তা দিচ্ছিও। কিন্তু এই ৩০০টাকার সাথে আবার সরকারকে ৪৫ টাকা ভ্যাট দিতে হচ্ছে। সরকার এই ভ্যাট তুলে নিলে এবং ব্যান্ডউইথের দাম কমালে আরও সহজে এবং সসত্দায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। ঢাকা শহরের প্রতিটি রাসত্দায় অসংখ্য তার ঝুলে থাকে যা দেখতে খুবই দৃষ্টিকটু লাগে। এসব তারের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তার অন্যতম। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় অনিচ্ছাশত্ত্বেও এই ধরনের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। তাই এই বিষয়ে বাজেটে সুনির্দিষ্ট পদৰেপ গ্রহন প্রয়োজন ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি একটি বিশাল বাজার। সরকারের পৰ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পেলে এই খাত থেকে বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।
এবারের বাজেটে ইকমার্সের উপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে যা মোটেই বোধগম্য নয়। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ঘোষনা দিয়েছে তা বাসত্দবায়নের জন্য এই বাজেট যথেষ্ট নয়। এই গতিতে কাজ করলে আমরা যথাসময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো না। আইসিটি পলিসি ২০০৯ অনুযায়ী আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবারের বাজেটে তার কোন উলেস্নখ নেই। আমরা সেটা চাই। এনটিটিএন এর ব্যাপারে সরকারের কোন ভালো ব্যাখ্যা নেই। এমন বহু স্থানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে যেখানে বিদু্যৎ নেই। এমন বহু স্কুলে কম্পিউটার দেয়া হয়েছে যেখানে কম্পিউটার শেখানোর মত কোন শিৰক নেই। স্কুলগুলোতে কম্পিউটার বিতরন করার পর শিৰার্থীদেরকে উপযুক্ত প্রশিৰন প্রদানের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মূল্য বর্তমানে প্রতি মেগাবাইট ১৮০০০ টাকা। এই মূল্য ৬০০০ টাকায় নামিয়ে আনলেও সরকারের কোন ৰতি হয় না। ২০১৪ সালের মধ্যে দেশে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হলেও এবারের বাজেটে মাননীয় অর্থমন্ত্রী শুধুমাত্র সংস্থাপন মন্ত্রানালয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এৰেত্রে কেন সমসত্দ মন্ত্রনালয়ের কথা উলেস্নখ হয়নি তা বোধগম্য নয়।
আমাদের প্রত্যাশাটা আরেকটু বেশি ছিল। আইটি খাতে আরো বেশি উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড গ্রহন করে কিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথকে এগিয়ে নেয়া যায় তা পরিস্কার হওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করছি। সার্বিক ভাবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য আইটি খাতে আরও কিছু বিষয়ে পদৰেপ নেয়া যেত।
এবারের বাজেটে টেলিকম খাতে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। সিম এবং মোবাইল হ্যান্ডসেটের উপর আরোপিত ট্যাক্স সমূহের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে সব ধরনের হ্যান্ডসেটের জন্যই একই হারে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। এৰেত্রে স্বল্প আয়ের মানুষের সুবিধার্থে সাধারন হ্যান্ডসেটগুলোতে ট্যাক্সের পরিমান কমিয়ে দিলে আরও কম অর্থ খরচ করে সাধারন মানুষ মোবাইল ফোন ক্রয় করতে পারত। তবে সরকার ইচ্ছে করলে এখনো এই বিষয়টির দিকে নজর দিতে পারে।







