৫ দিন ব্যাপি বেসিস সফট্‌এক্সপো ২০১০ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত

ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ইন একশন’ এই থিম নিয়ে শুরু হয়েছে বেসিস সফট এক্সপো ২০১০। বঙ্গবন্ধু আনৱর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন বানিজ্যমন্ত্রী ফারম্নক খান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স’পতি ইয়াফেস ওসমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আনিসুল হক, গ্রামীণফোনের সিইও ওডভার হেজেডাল এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত আইমার এ জনসন। হাবিবুলস্নাহ এন করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ইভেন্টস কমিটির চেয়ারম্যান এ তৌহিদ এবং ন্যাশনাল ইভেন্টস কমিটির ডিরেক্টর মুবিন খান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, সফটওয়্যার শিল্পে বুদ্ধিবৃত্তির ব্যবহার অনেক বেশি প্রয়োজন। আজকের এই সফটওয়্যার মেলার উদ্বোধন করতে এসে বিশেষ ভাবে মনে পড়ছে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এস এম কিবরিয়ার কথা। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির আজকের এই অবস্তা পর্যন্ত আসাতে তার অবদান অনস্বীকার্য। শাহ এম এস কিবরিয়া ১৯৯৬ সালে মোবাইল ফোনের মনোপলি ভেঙ্গে দেন। বর্তমানে বেসিসের ১৫০ টি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ৩০ টি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করে থাকে। সর্বশেষ বছরে বেসিসের রপ্তানি ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।  ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে রপ্তানি ছিল ৩১ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম রপ্তানি পন্য হিসেবে সফটওয়্যার শিল্প নিজের অবস’ান তৈরী করার পর্যায়ে চলে যাবে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ৰেত্রে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও সেইতুলনায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্য বাড়েনি। আমাদের প্রযুক্তি শিল্পে শক্তিশালি অবকাঠামো তৈরী করতে হবে।  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তিনটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। প্রথমত, দৰ জনশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত দেশের অভ্যনৱরীন চাহিদা বৃদ্ধি করতে হবে এবং তৃতীয়ত যুব সমাজের প্রতি আমার সুপারিশ হ”েছ তারা যেন তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি লয়েল্টি এবং কমিটমেন্ট বৃদ্ধি করে কাজ করে।

বিশেষ অতিথি বানিজ্য মন্ত্রী ফারম্নক খান বলেন, সফটওয়্যার মেলা আমাদের জন্য খুবই গুরম্নত্বপূর্ন একটি বিষয়। বাঙ্গালি বীরের জাতি। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ভালো গভর্নেন্স তৈরী করতে চাই। প্রযুক্তি শিল্পের রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই আমরা। আইসিটির সাথে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন জড়িত। আমাদের দেশে প্রতি বছর ৬-৭ হাজার শিৰার্থী গ্রাজুয়েট হয়ে বের হ”েছ। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সিলেবাসে শিল্পের সাথে তাল মিলিয়ে কোর্স অনৱর্ভূক্ত করার ৰেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। দেশের সফটওয়্যার শিল্প হতে উপার্জন ভবিষ্যতে আরও বহুগুনে বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স’পতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এর পথে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। সামাজিক ভাবেও আমরা বহুদূর এদিয়ে গেছি। কবিতার ভাষায় তিনি বলেন,
“কথা নয় মুখে মুখে
রোজ ঝামেলা গেছে মুছে
কথা হয় এসএমএস এ
কথা হয় ফেসবুকে”
ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে কোন একটি অংশের উন্নয়ন নয়। দেশের সকল সৱরের মানুষকে প্রযুক্তির ছায়ায় নিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তি ছাড়া যে দেশ চলবে না, এটা দেশের মানুষ বুঝে গেছে। তিনি বলেন,
“প্রযুক্তির ব্যবহার যত হয়,
কাজের সময় বাড়ে,
কমে আসে নষ্ট সময়।”
অর্থন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন হচ্ছে দেশের কোন একটি জেলাকে ডিজিটাল জেলা ঘোষনা করতে হবে।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আনিসুল হক বলেন, দেশের ৯৫ ভাগ সফটওয়্যার ব্যবসায়ী এখনো সংগ্রাম করছে। অন্যান্য শিল্পের মত সফটওয়্যার শিল্পের জন্যও একটি ভালো অবকাঠামো প্রয়োজন। এখানে সবাই খুব কষ্ট করছে। আমাদের দেশে দৰ ইঞ্জিনিয়ারের সংকট রয়েছে। আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর ৫,০০০ এর অধিক শিৰার্থী প্রযুক্তি বিষয়ে গ্রাজুয়েট বের হলেও তাদের অধিকাংশই সফটওয়্যার শিল্পের কর্মোপযোগী নয়। বর্তমান সরকারের বাজেটে প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকার বাজেট থাকলেও এখন পর্যনৱ কোন প্রজেক্ট বাসৱবায়িত হয়নি। দেশের সমসৱ অর্গানাইজেশনকে ডিজিটাল করতে হবে। দেশের পলিসি মেকারদেরকে পিসি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তিনটি জিনিসের সমন্বয় প্রয়োজন। সেগুলো হল দেশে একটি আইটি পার্ক, দৰ জনশক্তি এবং পর্যাপ্ত অর্থসংস’ান। গ্রামীনফোনের প্রধান নির্বাহী ওডভার হেজেডাল বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ৰেত্রে প্রথমে তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রথমত, দেশের সম্ভাবনাময় দিকগুলো চিহ্নিত করা, বর্তমানে দেশে বৈচিত্রময় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, মেধাবী শিৰার্থী রয়েছে, প্রযুক্তি বান্ধব সরকার রয়েছে এবং বড় বাজার রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোর্স কারিকুলামে কিছুটা পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে। দেশের কলসেন্টারগুলো সংগ্রাম করছে। প্রযুক্তি খাতে আরও বেশি বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে। গ্রামীণফোন দেশের মানুষকে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে সৰম হয়েছে।ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত এইনার এইচ জেনসেন বলেন, আইটির মাধ্যমে সকল প্রকার বানিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। বেসিস সকলকে একত্রিত করতে পেরেছে। বাংলাদেশের বেশ কিছু সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। দেশের দারিদ্র দূরীকরন এবং অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের জন্য প্রযু্‌ক্িতর সর্বো”চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি উন্নতির পথে হাঁটতে শুরম্ন করেছে। যেকোন উন্নয়নের জন্যই কিছুটা সময় নেয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে চাকরির ৰেত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। কারো পৰে একা কিছু করা সম্ভব নয়।
ন্যাশনাল ইভেন্টস কমিটির চেয়ারম্যান এ তৌহিদ বলেন, আমাদের ছেলেরা সফটওয়্যার শিল্পে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সফটওয়্যার শিল্পের মাধ্যমে তারা দেশকে বহির্বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে সৰম হবে বলে আমার বিশ্বাস। এই মেলা সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

  • Share/Bookmark

1 Comment for this entry

  • Shareef Dewan

    আমরা যখন ইয়াহুর বাংলাদেশ চ্যাট রুমে শর্বাধিক ৮০০ চ্যাটার কে দেখতে পাই আর পাকিস্তানের চ্যাট রুমে ৩৮০০ চ্যাটার কে দেখতে পাই ব্যাবধানটা চিন্তাজনক । ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে কমপিউটার ও এর প্রয়োজনিয় যন্ত্র পাতির মূল্য হ্রাস করতে হবে এবং ইন্টারনেটের মাসিক চার্জ অবশ্যই ২০০ টাকা করতে হবে ।

    [Reply]

Leave a Reply

Copyright © 2010 Computer Barta All rights reserved | Powerd by Computer Barta Web Team | Designed & Develop by Little Bytes Team