প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা দিবস উপলৰ্যে তিনটি ইলেক্ট্রনিক পোষ্টাল সার্ভিস ও বেশ কয়েকটি স্মারক ডাক টিকেট উদ্বোধন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ পদৰেপ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ৰেত্রে এক ধাপ এগিয়ে নিবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গণভবনের কার্যালয়ে ৫টাকা মূল্যমানের চারটি স্মারক ডাকটিকেট ও ৬টাকা মূল্যের একটি উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন। শেখ হাসিনা ডাক বিভাগের ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার (ইএমও), মোবাইল মানি অর্ডার (এমএমও) ও পোষ্টাল ক্যাশ কার্ড সার্ভিসও উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী ডাক বিভাগের এসব সেবা উদ্বোধন উপলৰে তাঁর টুঙ্গীপাড়া গ্রামের বাড়িতে কেয়ারটেকার বৈকুন্ঠ বাবুর কাছে এমএমও ব্যবহার করে ৫০০০টাকা পাঠান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আনন্দিত যে ডাক বিভাগ ইলেক্ট্রনিক সেবাসমূহ চালুর মাধ্যমে মাধ্যমে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দিকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এসব সেবা প্রত্যনত্দ গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে নগর ও শহরে বসবাসরত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের টাকা পাঠানোর সুযোগ করে দিয়ে কথিত ডিজিটাল ডিভাইডের আশংকা দূর করবে। এসব সেবা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা করেন যে, ডাক সেবাকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার দেশের ১০ হাজার ডাকঘরকে আধনিকায়ন করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের সাড়ে আট হাজার ডাকঘরকে ই-সেন্টারে রূপানত্দরের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোলস্না ওয়াহিদুজ্জামান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীলকানত্দি বোস, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক মোবাশ্বের রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মাহবুবুল হক শাকিল এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার (ইএমও) কি?
ব্যাংক আর রেমিটেন্স কোম্পানীগুলোর শাখা প্রত্যনত্দ অঞ্চলে না থাকায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ প্রত্যনত্দ অঞ্চলের গ্রাহকদের কাছে পেঁৗছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অনেক সময়। প্রেরিত টাকা পৌঁছাতে অনেক ৰেত্রে ৭/৮দিন সময় লেগে যায়। আর এ বাসত্দবতায় সাধারন মানুষ বিদেশ থেকে টাকা দ্রম্নত সময়ে পৌঁছে দিতে চালু করা হলো ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার সুবিধা। এখন থেকে ব্যাংক ও রেমিট্যান্স কোম্পানীগুলো তাদের রেমিট্যান্স ডাটা ইলেক্ট্রনিকভাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সার্ভারে সরাসরি পাঠাবে। আর পাঠানোর অর্থের প্রাপক তাৎৰনিকভাবে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে উপস্থিত হলে পোষ্টমাস্টার ডাক বিভাগের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে তথ্য পরীৰা করে টাকা পরিশোধ করবেন। আর এতে সময় লাগবে একেবারেই কম। এর জন্য সারা দেশের ডাক অফিসগুলোকে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরম্ন হয়েছে।
মোবাইল মানি অর্ডার (এমএমও) কি?
মোবাইল মানিঅর্ডার মূলত দেশের ভেতরে টাকা আদান প্রদানের মাধ্যম। এর মাধ্যমে যে কোন পোস্ট অফিস থেকে দেশের ভেতরে যে কোন গনত্দব্যে টাকা পাঠানো যাবে। আর পাঠানো টাকার তথ্য ডাক বিভাগের সেন্ট্রাল সার্ভারে রৰিত থাকবে। প্রেরক টাকা পাঠানোর সংগে সংগে তার মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে ১টি পিন নম্বর পাবেন। তিনি তার প্রাপককে এ পিন নম্বরটি এসএমএস বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। প্রাপক নিকটস্থ পোস্ট অফিসে গিয়ে এ পিন নম্বরটি প্রদান করলে পোস্টমাষ্টার সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে তার নিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তা যাচাই করে নিয়ে টাকা পরিশোধ করবেন।
পোষ্টাল ক্যাশ কার্ড সার্ভিস কি?
এটি হলো পিওএস ভিত্তিক ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সেবা। বেশী টাকা সঙ্গে না রেখে যে কোন পোস্ট অফিসে গিয়ে টাকা জমা রেখে একটি পোস্টাল ক্যাশকার্ড চার্জ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এই কার্ড থেকে পরে অন্য কার্ডে টাকা স্থানানত্দর বা যে কোন পোস্ট অফিস বা এটিএম মেশিন থেকে টাকা তোলা যাবে। এই কার্ড থেকে শপিং মলে বাজার করা থেকে শুরম্ন করে বিভিন্ন ধরনের বিলও পরিশোধ করা যাবে। ডাক বিভাগ বলছে, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবাসীদের টাকা তাৎৰনিকভাবে ডাক উপজেলা পর্যনত্দ বিলির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। যা পরে গ্রাম পর্যনত্দ ছড়িয়ে দেয়া হবে। আর ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বল্প খরচে টাকা পৌছে দেয়ার সুযোগ থাকলে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরিমান কমে আসবে। একই সাথে পোস্টাল ক্যাশ কার্ডে টাকা বহন করা অনেক বেশি ঝুঁকিমুক্ত।
- বার্তা ডেস্ক







