বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য সরকার আগামীকাল থেকে স্মার্ট কার্ড চালু করতে যা”েছ। স্মার্ট কার্ড কম্পিউটার চিপের সাথে সংযুক্ত একটি ট্যাগ।এই কার্ডের ফলে চাকুরি প্রার্থীরা বিদেশে থাকাকালীন নানা ধরনের সহায়তা পাবেন।
স্মার্ট কার্ডে পাসপোর্টে সন্নিবেশিত সকল তথ্য থাকবে। চাকুরি প্রার্থীরা আঙ্গুলের ছাপ, রিক্রুটিং এজেন্সির নাম , লাইসেন্স নম্বর প্রভৃতি তথ্য ও স্মার্ট কার্ডে সন্নিবেশিত থাকবে যাতে কর্তৃপক্ষ যে কোন প্রয়োজনে তড়িৎ সিদ্ধান- নিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জনশক্তি, কর্মসংস’ান ও প্রশিক্ষন ব্যুরোর ডিরেক্টর জেনারেল খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, স্মার্ট কার্ড থাকলে একজন ভ্রমনকারীকে বিমান বন্দরে ইম্বারকেশন ফর্ম পুরন করতে হবে না। কার্ড রিডারে স্মার্ট কার্ড ডুকানোর সাথে সাথে তথ্য ফরমটি তৎখনাৎ কোনরকম ব্যবস’া ছাড়াই পুরন হয়ে যাবে।
স্মার্ট কার্ডের এই ব্যবস’া বিমান বন্দরে ভ্রমনকারীদের তাৎক্ষনিক বিড়ম্বনা কমাবে। জনাব চৌধূরী আরও উল্লেখ করেন ,কার্ডটি ভ্রমনকারীকে খুবই সতর্কতার সাথে নিজের সাথে বহন করতে হবে ।কারন পাসপোটের পাশাপাশি এটিও একজন বিদেশে চাকুরের নির্ভরযোগ্য প্রামানিক তথ্য।
বি.এম.ই.টি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসাবে এই       নতুন কার্ড শুর” করতে যা”েছ। জনাব চৌধুরী বৃহস্পতিবার দৈনিক ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০শে ফেব্র”য়ারির ভিতরে এই প্রক্রিয়াটি সারা দেশে শুর” হবে।
সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর একজন চাকুরি প্রার্থী বি.এম.ই.টি থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার মাধ্যমে স্মার্টকার্ড পাবে।জনাব খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি শুর” হওয়ার পর একজন বিদেশ গামী স্মার্ট কার্ড ব্যতিত বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পার হতে পারবে না।
বর্হিগমন ও ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকতা এ প্রসঙ্গে বলেন এখন পর্যন- ইমিগ্রেশন পুলিশ ভ্রমনকারীর তথ্য সংগ্রহ করেন কিন’ স্মার্ট কার্ড শুর” হওয়ার সাথে সাথে বি.এম.ই.টি র সেবা কেন্দ্র একজন চাকুরের বর্হিগমন এবং প্রত্যাবর্তনের তথ্য সংরক্ষন করবে ।
উক্ত কর্মকতা আরও বলেন এই পদ্বতি বিদেশে অবস’ানরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের প্রকৃত তথ্য সরকারকে প্রদান করতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন বিদেশে অভিবাসীরা অনেক সমস্যার সমুখীন হয় কিন’ আমাদের দুতাবাসগুলো  কোন ব্যবস’া নিতে পারে না। কারন পাসপোর্ট হারিয়ে ফেললে একজন শ্রমিককে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন।
বেশির ভাগ জনশক্তি আমদানী কারক দেশগুলোতে চাকুরী দাতারা শ্রমিকদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয় এবং তাদেরকে অপব্যবহার করে।এ সকল পরিসি’তিতে শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পরে এবং মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয়।
উক্ত কর্মকর্তা আরও বলেন একজন স্মার্ট কার্ড ধারনকারী যদি তার পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন তখন তিনি কার্ডটি বিদেশে অবস’ানরত বাংলাদেশ দুতাবাসে উপস’াপন করতে পারেন।দুতাবাসে তখন তারা সংরক্ষিত তথ্য পরিক্ষা করে তাৎক্ষনিক সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন।
বি.এম.ই.টি পরিচালক নুর”ল ইসলাম বলেন মৃত অভিবাসী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যগন বি.এম.ই.টি অথবা জেলা জনশক্তি রপ্তানি অফিস থেকে ক্ষতিপুরন পেতে মারাত্মক দুর্ভোগের স্বীকার হন এ রকম সমস্যার মুূল কারন হ”েছ অভিবাসীর মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়ম মাফিক যাচাই বাছাই করা হয়।
কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন নতুন নিয়মানুযায়ী স্মার্ট কার্ডে মনোনীত ব্যক্তির নাম এবং ফটোগ্রাফ সংযুক্ত থাকবে ফলে মনোনীত ব্যক্তিদেরকে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে । তাছাড়া যদি কোন ব্যক্তি স্মার্ট কার্ড প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পূর্ববর্তী যাচাইকৃত তথ্যের মাধ্যমে মনোনীত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হবে।
একজন শ্রমিক যদি তার স্মার্ট কার্ড  হারিয়ে ফেলেন তাহলে কি ব্যবস’া নেয়া হবে জনাব খোরশেদ আলম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন অবশ্যই একটি পথ উদ্ভাবন করা হবে। তিনি বলেন যেহেতু আমরা এ পদ্বতিটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করেছি পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এতে নতুন  নতুন ব্যবস’া গ্রহন করা হবে ।
স্মার্ট কার্ড কিভাবে পাসপোর্ট জালিয়াতিকে রক্ষা করতে পারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন স্মার্ট কার্ডে  জালিয়াতি করা খুবই কঠিন কাজ । যদি কোন শ্রমিক স্মার্ট কার্ডে  নিয়ে কোন ধরনের ঝামেলার সম্মুখিন হন তখন তিনি খুবই দ্র”ত এর সমাধান পাবেন ।আমরা প্রত্যাশা করি বিদেশগামী শ্রমিকরা স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে যে কোন জালিয়াত চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাবেন ।

  • Share/Bookmark

4 Comments for this entry

Leave a Reply

Copyright © 2010 Computer Barta All rights reserved | Powerd by Computer Barta Web Team | Designed & Develop by Little Bytes Team