প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতিৰিত মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বলেছেন, এই পাসপোর্ট ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে।
আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এমআরপি উদ্বোধনকালে তিনি আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারনের মাধ্যমে দেশের উন্নতির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
উদ্বোদ্ধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে এই পাসপোর্ট তুলে দেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় মালয়েশিয়ান কোম্পানী আইআরআইএস মাত্র ৮ মাসে এই এমআরপি তৈরি করে। এই পাসপোর্টে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩৮টি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে এই পাসপোর্ট জালিয়াতি সম্ভ্বব হবে না।
মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের উদ্ধোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং এই পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে যে হয়রানির শিকার হতে হতো তা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুর হক টুকু, স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহার সিকদার, পকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ রেফায়েত উলস্নাহ, আইআরএস’র চেয়ারম্যান তান শ্রী রাজালি ইসমাইল ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্টের সহপরিচালক মোঃ আব্দুল মাবুদ।
যে ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী এমআরপি তুলে দেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দ সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শল (অবঃ) মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকার বীরউত্তম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবদুল মুবিন চৌধুরী, এটনর্ী জেনারেল মাহবুবে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক, র্যাব এর ডিজি হাসান মাহমুদ, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আনিসুল হক, সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার, বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ইহসানুল করিম হেলালম জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান প্রফেসর মমতাজ প্রমুখ। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধািনমন্ত্রী আরও বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশ্ব পরিনত হয়েছে গেস্নাবাল ভিলেজে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ বাংলাদেশী নাগরিক চাকরি, লেখাপড়া ও ব্যবসা-বানিজ্যে নিয়োজিত।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। কিন্তু সনাতন পদ্ধতির পাসপোর্টের কারনে অনেক সময়ই তাদেরকে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালুর ফলে এই হয়রানি বন্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই সনাতনী পদ্ধতির পাসপোর্ট ও ভিসার পরিবর্তে আনত্দর্জাতিক মানের যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট ও ভিসা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহন করে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এবং ভিসা ব্যবস্থা আনত্দজর্াতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে বলে মতপ্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও ভিসা এখন উন্নত দেশের পাসপোর্ট ও ভিসার মতো সমমানের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময়ে পাসপোর্ট টেম্পারিং করে নিরীহ মানুষকে ঠকানো হতো। সনাতন পদ্ধতিতে এক ব্যাক্তির ভিন্ন নামে একাধিক পাসপোর্ট রাখার সংযোগ ছিল। আর এসব পাসপোর্ট সাধারনত অস্ত্র ও চোরাচালানের কাজে বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এমআরপি প্রবর্তনের ফলে এখন আর কেউই একাধিক পাসপোর্ট রাখতে পারবে না এবং তথ্য গোপন করাও সম্ভব হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, গত বছর মার্চ মাসে ৫শ’ ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এমআরপি প্রবর্তনের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রকল্পের কাজ এখন দ্রম্নত এগিয়ে চলেছে। দ্রম্নততার সঙ্গে প্রকল্প বাসত্দবায়নের জন্য সংশিস্নষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৩ মে ঢাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রদান শুরম্ন হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বাইরেও ১৯টি পাটপোর্ট অফিস স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে জনগনের দোরগোড়ায় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও ভিসা সেবা পৌঁছে দেবার জন্য প্রতিটি জেলাতেই আঞ্চলিক অফিস স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, যেসব বাংলাদেশী নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদেরকে দ্রম্নত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই দূতাবাসগুলোতে যন্ত্রপাতি ও জনবল বাড়ানোর উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে দ্রম্নত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে নির্শেন দেন।
বর্তমান মেয়াদের দায়িত্ব গ্রহনের পর জনগনের কল্যানে গৃহিত পদৰেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৰুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাটাই তার সরকারের লৰ্য। তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোহিতা প্রত্যাশা করেন।
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্য ঘাটতির কথা উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা সত্বেও আমরা বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করতে সৰম হয়েছি। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এবার দেশে বাম্পার খাদ্য উৎপাদনের কথা উলেস্নখ করে বলেন, ‘শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না, মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দিতে হবে।’ সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করেছে বলে তিনি উলেস্নখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস, দুনর্ীতি ও জঙ্গিবাদ নিমর্ূল করে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সাধনার বাংলা প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, এমপি এবং উপ্চ পদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







