কারেন্ট নিউজ
   
 
এডভার্টাইজমেন্ট
 
 
৬ষ্ঠ শ্রেনীতে নতুন বিষয় আইসিট
এবার ষষ্ঠ শ্রেণীতে বাধ্যতামূলভাবে একটি নতুন বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বিষয়টির নাম 'তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)'। ২০১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এসএসসি পর্যন্ত এ বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবেই পড়তে হবে। এতে ২০১৬ সালের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থী তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে মোটামুটি ভাল জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকারের 'ভিশন-২০২১' বাস্তবায়নের লর্ক্ষে্যই এ বিষয়টি চালু করা হয়েছে। এতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এ বিষয়টিও বাধ্যতামূলক। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ৮০০ নম্বরের পরিবর্তে ৯০০ নম্বরের ওপর পরীক্ষা দিবে।

প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ও কারিগরিস্তরের আগামী ২০১২ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের সব পাঠ্যপুস্তক জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো:মোস্তফা কামালউদ্দিন বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২০১২ শিক্ষাবর্ষের সকলস্তরের বই পৌঁছে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে ৩৫ ভাগ বই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জেলা ও উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছ থেকে এসব বই বুঝে নেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বই পৌঁছানোর খরচও বহন করবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। কোন অভিভাবক বা শিক্ষার্থীকে পাঠ্যপুস্তক পেতে কোন রকম টাকা-পয়সা প্রদান করতে হবে না। চেয়ারম্যান বলেন, ২০১২ শিক্ষাবর্ষের সকল স্তরের ৩ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৯ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে মোট ২২ কোটি ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৯টি বই। গত বছর বই সরবরাহের এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪টি এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৩২১ জন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে যুুগোপযোগী ও শ্রেণীকক্ষে পাঠদানকে আনন্দদায়ক করার জন্য ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বই নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এই তিন শ্রেণীর (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম) সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক বইটিরও কারিকুলাম এবং নাম দু'ই পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এ বিষয়টির নাম হবে 'বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়'। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষাস্তর শুরু হয় ক্লাস ওয়ান থেকে। কিন্তু আগামী ২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের একধাপ নিচে থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে। একেবারেই ছোট্ট সোনামনিদের জন্য প্রাক- প্রাথমিক শ্রেণী নামে চালু করা হচ্ছে একটি ক্লাস। এ জন্য কারিকুলামও চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, ভারতের তিনটিসহ মোট ১৯টি পাবলিকেশনস এবার বই মুদ্রণের কাজ করছে। প্রাথমিকস্তরের এক কোটি ৮১ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৩ শিক্ষার্থীর জন্য ১০ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১টি বইয়ের এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ রঙিন বইগুলোর মূদ্রণের কাজ করছে ভারতের তিনটি পালিকেশনস। তাদের বইগুলো ১৫ নভেম্বরে মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

এছাড়া প্রাথমিক স্তরের দুই-তৃতীয়াংশ এবং মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ও কারিগরিস্তরের সব বইয়ের মুদ্রণের কাজ করছে দেশের প্রকাশকরাই। মাধ্যমিকস্তরের ৮৪ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ শিক্ষার্থীর জন্য ৮ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ২৫৭টি, ইবতেদায়ী স্তরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫৯ শিক্ষার্থীর জন্য এক কোটি ৫৮ লাখ ৩ হাজার ৭৭৪টি, দাখিল স্তরের ১৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৭ শিক্ষার্থীর জন্য এক কোটি ৬৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৩২ টি এবং কারিগরি স্তরের এক লাখ ৬২ হাজার ৫৪০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ লাখ ২১ হাজার ৫১৯টি বই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা মুদ্রণ প্রকাশনাগুলোর সঙ্গে সবসময়ই যোগাযোগ রা করে চলেছি। ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে আগামী শিক্ষাবর্ষের মোট বইয়ের ৮০ ভাগ। মোট বইয়ের ৩৫ ভাগ আবার জেলা উপজেলা পর্যায়েও পৌঁছে গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর বাধ্যতামূলক 'তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি' নতুন বিষয়ের বইটি প্রসঙ্গে নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, বইটি বেশ চমৎকার ও সহজ পাঠ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বেশ সহজেই তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে পারবে। অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার চমৎকারভাবে বইটি সম্পাদনা করেছেন।
 


এডভার্টাইজমেন্ট