কারেন্ট নিউজ
   
 
এডভার্টাইজমেন্ট
 
 
কেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং এর ভবিষ্যত
জনাব ওমর ফারুক ভূইয়া, এক্সিকিউটিভ ভাইস্ প্রেসিডেন্ট,
হেড অব কার্ড ডিভিশন, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড।
১৯৭১ সালে সতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশ বিশ্বে তার একটি পরিচিতি এবং মর্যাদার আসন গড়তে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ একটি দেশের নতুন করে জন্ম নেয়া এবং নানা রাজনৈতিক বিপর্যয় কাটাতে একদশক সময় লেগে যায়। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ১৯৮৩ সালে প্রথম ৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং সেবা প্রাদানের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়। শিল্প, বানিজ্য সহ নানা ব্যবসা প্রসারে এই বেসরকারী ব্যাংকগুলি সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতিতে অনন্য ভূমিকা রাখতে থাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষে একে একে ম্যানুয়েল ব্যাংকিং এর স্থলে কম্পিউটার ব্যাংকিং পদ্ধতি সংযোজিত হতে থাকে। পথিকৃত হিসাবে এবি ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

কম্পিউটারাইজড ব্যাংকিং চালুর পাশাপাশি নগদ টাকায় লেনদেনের পরিবর্তে প্রবর্তিত হয় প্নাস্টিক মানি। অর্থাৎ ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড পদ্ধতি। বাংলাদেশী ব্যাংকের মধ্যে ১৯৯৭ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক প্রথম মাষ্টার কার্ড, ক্রেডিট কার্ড চালু করে দেশে এবং বিদেশে এই কার্ড ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। এরপর একে একে আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের কোম্পানী VISA GLOBAL, MASTER CARD INTERNATIONAL এবং AMEX কার্ড এই দেশে ২৫টি ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড বিভিন্ন নামে প্রচলন করে। কার্ড প্রচলনে গ্রাহক সেবা উন্নয়নের ফলে এদেশে অন্তত: ২% লোক এখন ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ব্যবহারে অভ্যস্থ। এদেশে হাজার হাজার শহর বন্দর জেলা উপজেলায় গ্রাহক সেবার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ATM স্থাপন করে দিন-রাত ২৪ঘন্টা ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেন উন্নয়নশীল দেশে ৯৮% সম্পন্ন হয়ে থাকে ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে। এর ফলে মানুষ তার লেনদেন নিরাপদে এবং অতি সহজে সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছে। আমাদের দেশে ছিনতাই, রাহাজানি নিত্যদিন যে পরিমান বেড়ে চলছে, সে ক্ষেত্রে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন এর পরিমান এবং সুযোগ যত বাড়বে গ্রাহক ততবেশী উপকার পাবে এবং এই কার্ড পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠবে। হয়তো দেখা যাবে আগামী এক দশকে আমাদের দেশেও ৮০%-৯০% লোকের ওয়ালেটে নগদ টাকার পরিবর্তে প্নাস্টিক কার্ড থাকবে।

প্রযুক্তিকে মানুষ তার কল্যাণে লাগিয়ে জীবনের চলার পথকে নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক করার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আমি এখানে শুধু ব্যাংকিং সেক্টরে যে অভাবনীয় পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে তার কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করব। এর মধ্যে রয়েছে অটোমেটেড বা অনলাইন ব্যাংকিং সেবা, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড,ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা,ই-কর্মাস ব্যাংকিং সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং,রেমিটেন্স সেবা ইত্যাদি।

অটোমেটেড বা অনলাইন ব্যাংকিং সেবা: এতদিন কোন গ্রাহক বা বাহক কোন ব্যাংকের একাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন বা একাউন্ট এ নগদ বা চেক জমা দিতে চাইলে কেবল মাত্র সেই নির্ধারিত শাখাতেই জমা দিতে হতো বা টাকা উত্তোলন করতে পারত। কিন্তু আধুনিক অনলাইন ব্যাংকিং সার্ভিস বিভিন্ন ব্যাংক চালু করায় গ্রাহককে আর সেই অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে না। গ্রাহক এখন তার ইচ্ছে মত নির্ধারিত ব্যাংকের বাংলাদেশে অবস্থিত যে কোন শাখা থেকেই টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়ার মতো সেবা গ্রহন করতে পারে। গ্রাহক ইচ্ছা করলে তার যেকোন সেবা বিল যেমন টেলিফোন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি সরাসরি নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট এ জমা প্রদান করতে পারেন।
.....................................(চলবে)
 


এডভার্টাইজমেন্ট