ব্যাংকে
একাউন্ট করা মাত্রই এখন ডেভিট কার্ড ইসু করা হয় এবং অধিকাংশ একাউন্ট হোল্ডার দিনের
বেলায় ব্যাংক লেনদেনের সময় ব্যাংকে না গিয়ে দিনের ২৪ঘন্টাই যে কোন এটিএম বুথ থেকে
টাকা উঠানো ও জমা দিতে পারেন। তাছাড়া যারা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন তারাও
বিভিন্ন শপিং মলে কেনা কাটা এবং নগদ টাকা উত্তোলনে এটিএম বুথ সমূহ ব্যবহার করেন।
এখন দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন ব্যাংকের এই এটিএম বুথ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবুও
অনেক গ্রাহক এখনও কার্ড কালচারের আওতায় আসেনি এবং তারা এখনও এটিএম বুথে না গিয়ে
শুধু ব্যাংক সময়ে ব্যাংকের কাউন্টারে দাড়িয়ে আগের মতো টাকা উত্তোলন করেন এবং ব্যাংক
কাউন্টারে নিজ হাতে টাকা জমা দিতে নিরাপদ বোধ করেন। এটিএম বুথে টাকা জমা দিলে
ঠিকমতো জমা হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায়
থাকেন। কিন্তু
তারা হয়তো জানেনা অসময়ে নগদ টাকা বহন না করে তাদের আশে পাশের এটিএম মেশিনে জমা
দিলেও টাকা জমা হয়ে যাবে।
তাছাড়া নগদ টাকা নিয়ে ঘুরাঘুরি করা মোটেও নিরাপদ নয়। এছাড়া যে কোন সময় টাকার
প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে ব্যাংক চলাকালীন সময়ের পর। সেক্ষেত্রে
এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা টাকা তোলার কালচার চালু হয়ে রয়েছে। আর এই সুবিধার
জন্য নগদ টাকা বহনের বিকল্প হিসেবে রয়েছে নানা রকমের কার্ড। এসব কার্ড এর মধ্যে
রয়েছে ক্রেডিট কার্ড, ডেভিট কার্ড, কিউক্যাশ, ই-ক্যাশ, রেডিক্যাশ ইত্যাদি। এই
কার্ডের মাধ্যমে যেমন এটিএম (অটোমেটেড টেলর মেশিন) থেকে যে কোন সময় টাকা উঠানো যায়।
ঠিক তেমনি যে কোন বড় শপিং সেন্টার থেকে কার্ড দিয়ে জিনিসপত্র কেনা যায়। আজ কাল ঢাকা
শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনার জন্য পিকিউএস, আগোরা, মিনা বাজার, প্রিন্স
বাজার, স্বপ্ন এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মানুষ কার্ড দিয়ে জিনিস পত্র কিনতে দেখা
যাচ্ছে অহরহ। এই কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে
বার্ষিক চার্জ ও অন্যান্য সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কম্পিউটার বার্তা'র এবারের প্রচ্ছদ
প্রতিবেদন 'কার্ড কালচার'।
কার্ডের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এর পুরো প্রক্রিয়াটি একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত
মেশিনের মাধ্যমে ঘটে থাকে। এনসাইকোপিডিয়া ব্রিটানিয়ার তথ্য মতে ১৯২০সালে আমেরিকাতে
প্রথম ক্রেডিট কার্ড চালু হয়। তখন চেইন হোটেল, তেল কোম্পানী তাদের ব্যবসা ক্ষেত্রে
গ্রাহকদের এই ধরনের কার্ড সরবরাহ করতো। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এর ব্যবহার বাড়তে
থাকে। প্রথম ইউনিভার্সেল ক্রেডিট কার্ড যা স্টোরে এবং ব্যবসা ৰেত্রে ব্যবহৃত হয়,
তার সূচনা করেছিল ১৯৫০ সালে ডিনার্স কাব।
এই পদ্ধতিতে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী কার্ড হোল্ডারকে মাসিক বা বাৎসরিক ফি এবং বিল
পাঠাতো। ১৯৫৮ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেস
ব্যাংক এই ধরনের কার্ডের সূচনা করে।
ডেবিট কার্ড
ডেবিট কার্ড অনেকের কাছে ব্যাংক কার্ড কিংবা চেক কার্ড নামে পরিচিত। ডেবিট কার্ড
মূলত নগদ টাকার পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কার্যগত ভাবে এই কার্ডকে ইলেক্ট্রনিক
চেকও বলা যায়। আপনার ব্যাংক একাউন্টে যে পরিমান অর্থ জমা থাকবে তার চেয়ে বেশি
পরিমান অর্থ এই কার্ড দিয়ে খরচ করা যাবে না কিংবা উত্তোলন করা যাবে না। ডেবিট
কার্ডের মধ্যে রয়েছে অনেক প্রকারভেদ। এর মধ্যে ভিসা কার্ড, কিউ ক্যাশ, ই-ক্যাশ এবং
মাস্টার কার্ড অন্যতম।
ই-ক্যাশ কার্ড
দেশের বেশ কিছু ব্যাংক একত্রে ই-ক্যাশ সার্ভিস চালু করেছে। এই ব্যাংকগুলোর যে কোন
একটিতে একাউন্ট থাকলে ই-ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা টাকা তোলা যায়। এই
ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে -অগ্রনী ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ব্যাংক এশিয়া,
ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক, সাউথইস্ট
ব্যাংক, দি ওরিয়েন্টাল ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ ইত্যাদি। এই ই-ক্যাশ
কার্ড নির্দিষ্ট এটিএম বুথে ব্যবহার করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যে কোন সময় টাকা তোলা এবং
একাউন্ট ব্যালেন্স জানা যায়। এছাড়া বিভিন্ন ইউটিলিটি বিলও পরিশোধ করা যায়।
ক্রেডিট কার্ড
ক্রেডিট কার্ড হল ব্যাংক কতর্ৃক ইসুকৃত
এগ্রিম টাকা তোলার কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ঋন হিসেবে খরচ
করা যায়। সাধারনত ব্যাংক কতৃক নির্ধারিত সীমার ৫০% টাকা এটিএম বুথ থেকে নগদ তোলা
যায়। বাকী ৫০% টাকা পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে খরচ করা যায়। তবে মাসের একটি নির্দিষ্ট
তারিখের মধ্যে ৫ থেকে ৮% টাকা ফেরত দিতে হয় সুদ ও সার্ভিস চার্জ সহ। দেরি হলে দিতে
হয় ৩০০/৪০০ দেরি ফি। এছাড়া রয়েছে বাৎসরিক প্রকার ভেদে ১০০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা
পর্যনত্দ বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ।
মাষ্টার কার্ড
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের মানুষকে সেবা প্রদান করছে মাষ্টার কার্ড। মাষ্টার
কার্ডের পথচলা শুরম্ন হয়েছিল ১৯৪০ সালে। হিসাব সংরৰনের জন্য ১৯৫১ সালে নিউইয়র্ক
ভিত্তিক ফ্রাংকলিন ব্যাংক মানি রসিদের পরিবর্তে কার্ডের ব্যবহার শুরম্ন করে। এরপর
১৯৬৬ সালে ১৬আগষ্ট কিছু ব্যাংক সম্মিলিতভাবে ইন্টারনেট ব্যাংক কার্ড এসোসিয়েশন তথা
আইসিএ প্রতিষ্ঠা করে। এই এসোসিয়েশনের উদ্দেশ্য ছিল আনত্দর্জাতিকভাবে মাষ্টার
কার্ডের প্রচলন করা। ফলে ১৯৬৮ সালে মেঙ্েিকা ও ইউরোপে মাষ্টার কার্ডের ব্যবহার
শুরম্ন হয়। ইউরোপে এই কার্ড ইউরো কার্ড নামে প্রচলিত ছিল। এই সময় জাপানেও এই
কার্ডের ব্যবহার শুরম্ন হয়। ১৯৭০ সাল নাগাদ আফ্রিকা ও অষ্ট্রেলিয়াসহ
বিশ্বের অনেক দেশ মাষ্টার কার্ডের ব্যবহার শুরম্ন করে এবং একই বছর আনুষ্ঠানিকভাবে
মাষ্টার কার্ড নামটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে এশিয়া এবং লেটিন আমেরিকা, ১৯৮৭
সালে চীন এবং ১৯৮৮ সালে রাশিয়ায় মাষ্টার কার্ডের প্রচলন শুরম্ন হয়। বর্তমানে পৃথিবী
জুড়ে মাষ্টার কার্ডের শাখা অফিস রয়েছে। নিউইয়র্ক হেড অফিস থেকে এই সকল শাখা অফিস
নিয়ন্ত্রন করা হয়। |